ভালো ল্যাপটপ কেনার আগে করণীয়

অফিসের কাজ,গানশোনা, মুভি দেখা, গ্রাফিক ডিজাইন  কিংবা ফ্রিলেস্নিং করার জন্য বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিভাইস ল্যাপটপ। যেহেতু  ওজনে হালকা ও বহণ করা সহজ তাই ডেস্কটপ থেকে ল্যাপটপই সবার  প্রথম পছন্দ। আর তার ধারাবাহিকতায় অনেকে ল্যাপটপ কিনে ঠিকই কিন্তু ভালো ল্যাপটপ না চিনার কারণে পরে ধোকা খেতে হয়। এখন আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনাদের ভালো ল্যাপটপ কিভাবে চিনবেন এবং কেনার আগে কোন কোন বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তা জানিয়ে দেওয়া। তাই আপনাদেরকে অনুরোধ রইল পুরো পোষ্টটি পড়োন এবং আমাদের সাথে থাকোন পরবর্তী আপডেটের জন্য।

প্রথমত একটি ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে আপনাকে ৪টি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আর এগুলো হলো-প্রসেসর, স্টোরেজ,রেম এবং ডিসপ্লে। আর আপনি কি ধরণের কাজ করবেন তার উপর ভিত্তি করে এই৪টি বিষয়কে প্রধান্য  দিতে হবে।

প্রসেসরঃ আপনি কতটা ভারি কাজ করবেন তার উপর ভিত্তি করে আপনাকে আপডেটেড মডেলের প্রসেসর নিতে হবে।এখন আপনার দরকার ১০ বা ১২ জেনারেশনের প্রসেসর কিন্তু আপনি নিলেন ৫/৬ জেনারেশনের প্রসেসর তাহলে আপনি আপনার কাজ করতে পারবেন না।

রেমঃ রেমে সাধারণত সাময়িক সময়ের জন্য ডাটা থাকে।রেম প্রসেসরকে দ্রুত কাজ করতে সহয়তা করে। তাই রেম নেওয়ার ক্ষেত্রে ৮জিবি নিবেন নাকি ১৬ জিবি নিবেন তা আপনার কাজের উপর নির্ভর করে

স্টোরেজঃ আপনার ল্যাপটপে কি পরিমাণ ডাটা সংরক্ষণ করবেন তার উপর ভিত্তি করে স্টোরেজ নিতে হবে।আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ২৫৬জিবি বা ৫১২ জিবি স্টোরেজ নিতে পারেন।

ল্যাপটপ কিনার ক্ষেত্রে আরো কিছু বিষয় আছে যেগুলো খেয়াল রাখতে হবেঃ

আপনার প্রয়োজনীয় স্পেসিফিকেশন এবং  কনফিগারেশন ল্যাটপটি কিনুনঃ

আপনি আপনার ল্যাপটপটি  কি ধরণের কাজে ব্যবহার করবেন তার উপর ভিত্তি করে ঐ রকম কনফিগারেশনের ল্যাপটপ  কিনুন। ধরেন, আপনি ল্যাপটপে মুভি দেখা, হালকা টাইপিং কিংবা ইন্টারনেটে ব্রাউজিং করেন তাহলে আপনাকে বাড়তি টাকা খরচ করে  হাই কনফিগারেশনের ল্যাপটপ  না কিনে প্রয়োজন অনুযায়ী কনফিগারেশনের  ল্যাপটপ নিলে ভালো হবে। আবার ধরেণ, আপনি গ্রাফিক ডিজাইন, ভিড়িও এডিটিং করতে চান| তাহলে আপনাকে ভালো কনফিগারেশনের ল্যাপটপ নিতে হবে । তা না হলে ল্যাপটপ হ্যাং করতে পারে,কাজের সময় অতিরিক্ত গরম হয়ে মাদারবোর্ড পুড়ে যেতে  পারে। এই জন্য আপনাকে সতর্ক হয়ে সঠিক কনফিগারেশনের ল্যাপটপটি কিনতে হবে।

ল্যাপটপের সাইজ ও ওজন:- 

ল্যাপটপের  মডেল অনুযায়ী সাইজ বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। ব্যবহারের প্রেক্ষিতে ১৪ ইঞ্চি বা তার চেয়ে কম সাইজের ল্যাপটপগুলো ছোট। তাই আপনার ছোট লেপটপে সুবিধা মনে করলে এই সাহজটা নিতে পারেন।  আর ১৫ ইঞ্চি ল্যাপটপ গুলো হলো মাঝারি সাইজের । আর ১৬ ইঞ্চি ল্যাপটপগুলো আকারে বড়। সাধারণত যারা  ভিডিও এডিটিং টাইপের  কাজ করে তাদের বড় একটা স্কিনের  প্রয়োজন পড়ে। তাই বড়  স্ক্রিনের ল্যাপটপ কিনতে হবে। আপনার পছন্দের ল্যাপটপটি কিনতে এই তিনটি  সাইজ থেকে একটা পছন্দ করতে হবে। আবার ল্যাপটপের সইজের পাশা-পাশি ওজনের ব্যাপরটাও খেয়াল রাখতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় লাপটপের ওজনের কারণে বহণ করতে কাষ্টকর হয়ে যায়। যার ফলে ল্যাপটপ  ব্যবহারে আগ্রহ কমে  যায়। তাই স্লিম, সুন্দর দেখে ল্যাপটপ কিনতে হবে। 

টাচ প্যাড এবং কি-বোর্ড সঠিকভাবে পরীক্ষা করা:

ল্যাপটপ কেনার পর অনেকে ভাবে  যে আলাদা কি বোর্ড, মাউস  ব্যবহার করবে তাই সংযুক্ত থাকা কি বোর্ডের  দিকে গুরুত্ব দেয়  না। তবে মাথায় রাখতে হবে যে অনেক সময় আলাদা  কি- বোর্ড,  মাউস  ব্যবহার করার সুযোগ বা পরিবেশ থাকে না তাই এই ব্যাপারটা  গুরুত্ব  দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে যে টাচপ্যাড  এর পারফমেন্স কেমন। কী বোর্ডের  সকল কী কাজ করে কিনা।

ডিসপ্লে সম্পর্কে  ধারণা রাখাঃ-

ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে  অবশ্যয় ডিসপ্লে কোয়ালিটিটাকে গুরুধ দিতে হবে। মূলত আপনার কাজের ধরণ অনুযামী ডিসপ্লে কোয়ালিটিটা সিলেক্ট  করতে হবে। আপনি কি Full HD  বা  2k অথবা 4k রেজুলেশনের ল্যাপটপ নিবেন ওটা আপনার কাজের উপর নির্ভর করে। যেমন: গ্রাফিক ডিজাইন এর ক্ষেত্রে ভালো কোয়ালিটির ডিসপ্লে না হলে ডিজাইন সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা যায় না।  তাছাড়া ভিডিও এডিটিং এর ক্ষেত্রে ভালো ডিসপ্লে না থাকলেও সুন্দর আউটপুট পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে ৩ ধরনের ডিসপ্লে কোয়ারিটি থেকে যে কোনো একটি সিলেক্ট করতে হবে। তবে এ গুলোর সুবিদার পাশা পাশি কিছু অসুবিদা ও রয়েছে।

ব্যাটারি স্থায়িত্ব বা ব্যাকআপঃ

যেহেতু আপনি ল্যাপটন কিনতেছেন সাচ্ছন্দে ব্যবহার করার জন্য তাই ব্যাটারি ব্যাকআপটা যেন ঠিক ঠাক থাকে এ ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। যদিও ল্যাপটপ সরাসরি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যবহার করা যায় তার পরে ও ব্যাটারি- ব্যাকআপটা জরুরি। কারণ অনেক সময় বিদ্যুৎ সমস্যা করে বা সরাসরি বিদ্যুৎতের ব্যবস্থা থাকে না ঐ সময় ব্যাটারির ব্যাকআপের প্রয়োজন পরে বা চার্জার না নিয়ে দূরে কোথাও গেলেও  ব্যাটারির ব্যাকআপটা ই প্রয়োজন পরে।তাই ল্যাপটপ কেনার আগে ব্যাটারি ক্যাপাসিটি লাইফ টাইম, পাওয়ার  এ সকল বিষয় ক্লিয়ার করে সিদ্ধান্ত নিতে  হবে।

কোন ব্র্যান্ড বা কম্পানির ল্যাপটপ কিনবেন:-

 ল্যাপটপ  কিনার আগে সবচেয়ে বেশি যে ব্যাপারে ভাবা লাগে তা হলো কোন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ নিলে ভালো হবে এ ব্যাপারে দ্বিধায়  পরতে হয় । আবার অনেকে প্রতারকদের ফাদে পরে কম দামে ভালো ল্যাপটপের আশায়  আজে বাজে নিম্ন মানের ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ কিনার পর ঠকে যায়।  তাই মনে রাখতে হবে ভালো ল্যাপটপ শুধুমাত্র ভালো ব্র্যান্ড ই  সাপ্লাই করে থাকে। আর টাকাটা মুটামুটি একটু বেশি খরচ হয়। কিন্তু  অনেকে ব্র্যান্ড চিনতে না পেরে কিনার পর নিজের ভুল বুঝতে পারে। তাই প্রতারণার  শিকার না হয়ে ভালোভাবে  যাচাই করে ল্যাপটন কিনতে হবে তবেই আপনি কাঙ্খিত ল্যাপটপটি পাবেন।আর অবশ্যয় অফিসিয়াল ল্যাপটপ কিনতে হবে যেন আইনি জটিলতার মধ্যে না পরতে হয়।অফিসিয়াল গ্যারান্টি ও ওয়ারেন্টি বুঝে নিতে হবে যেন পরবর্তী সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়।

ল্যাপটপ বডি ও পোর্টঃ

আপনার পছন্দের ল্যাপটপটির বডি কোন পদার্থ দিয়ে তৈরি তা জেনে নিতে হবে করণ অনেক সময় দূঘটনাবসত ল্যাপটপ উপর থেকে পরে গিয়ে ভেংঙে যেতে পারে বা ক্ষতি হতে পারে।তাই ভালো পদার্থ দিয়ে বডি বিল্ড থাকলে ক্ষতিটা কম হবে। আবার ল্যাপটপে স্ক্যাচ ও কম হবে

পোর্টের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে আপনার প্রয়োজনীয় পোর্ট গুলো আছে কি না।ধরেন আপনার USB পোর্ট দরকার ৩ টা কিন্তু আছে ২ টা এ ক্ষেত্রে পোর্ট বাড়ানোর কনো অপশন নাই,আপনাকে কষ্ট করে চালাতে হবে।তাই প্রথমে দেখে নেওয়া ভালো।আর বর্তমান সময়ে টাইপ-সি পোর্টটা থাকা জরুরি তা মনে রাখতে হবে।

আপনার বাজেট:

আপনি কত টাকার মধ্যে ল্যাপটপ কিনতে চান তার মধেই আপনার পছন্দের মডলটি থাকতে হবে। তা না হলে বাজেটের বাইের গেলে আপনি ল্যাপটপ কিনতে পারবেন না।  তাই প্রথমে আপনার বাজেটা স্থির করতে হবে।  আপনি কি ৬০০০০-৮০০০০ এর মধ্যে কিনবেন নাকি বাজেট  বাড়াবেন এটা আগে স্থির করেন। তারপর এই বাজেটের মধ্যে আপনার পছন্দের ল্যাপটপ আছে কি না তা যাচাই করে মার্কেটে যেতে হবে।

কোন দোকান থেকে কিনবেনঃ

ল্যাপটপ কিনার ক্ষেত্রে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে কোন দোকান থেকে ল্যাপটপ কিনবেন।অবশ্য আপনার পরিচিত বিশস্ত দোকান থেকে নিতে পারেন। এরকম চিনা না থাকলে আবশ্য দোকান যাচাই করে নিতে হবে। তা না হলে দেখা গেল আপনাকে ব্যবহার করা ল্যাপটপ দিয়ে দিল আপনি কাজ করতে অসুবিদা হবে।তাই এই ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে।

ধন্যবাদ আমাদের সাথে থাকার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *